২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadআধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।

আজ ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এ বাস্তবতায় দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, “সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।”

তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। ওই নীতিমালায় সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়; বরং সম্ভাব্য যেকোনো সংকট, আগ্রাসন কিংবা দুর্যোগ মোকাবিলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল ও আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।

উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন নিরাপত্তা কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথ সক্ষমতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো হলো— সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা।