২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadমৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান মন্ত্রীর

মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান মন্ত্রীর

মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়ানোর আহ্বান মন্ত্রীর

বিশ্বে খাদ্যের অভাবের তুলনায় বর্তমানে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদা বেশি। তাই বাংলাদেশে নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) আয়োজিত ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মাছ উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের মৎস্য খাতের বর্তমান সমস্যা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, মানুষের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা গেলে এ খাতে দ্রুত অগ্রগতি সম্ভব।

তিনি বলেন, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের চাহিদার ওপর নির্ভর করলে হবে না। যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে, সেই দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা উৎপাদন ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।

মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ মৎস্য খাতের উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট এবং শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকায় খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিএফআরআই মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইয়ের বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।