২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadকুমিল্লা সদর উপজেলা প্রশাসন কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কুমিল্লা সদর উপজেলা প্রশাসন কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ইউএনও কানিজ ফাতেমাকে ঘিরে অভিযোগের পাহাড়,

আয়েশা আক্তার।।

দীর্ঘ ৬ মাস আগে অভিযোগ সামনে এলেও নেই দৃশ্যমান তদন্তের অগ্রগতি, প্রশাসনের নীরবতায় কৌতূহল ও প্রশ্ন দুটোই বাড়ছে। কুমিল্লা সদর উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। তিনি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুমিল্লা সদর উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সদস্যদের প্রশিক্ষণের নামে একাধিক বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে কতগুলো প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য মিলছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার অভিযোগ, প্রশিক্ষণের নামে সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নেই, রয়েছে স্বেচ্ছাচারিতা।

এছাড়া “১% খাত” থেকে বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের বিপরীতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পাইয়ে দিতে সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

“১% ফাইল” থেকে অফিস খরচের নামে নির্দিষ্ট হারে টাকা কেটে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন ফাইল ছাড় ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়। অন্যথায় সই হয়না ফাইল। পড়ে থাকে মাসের পর মাস।

কুমিল্লা সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদে সরে জমিনে পরিদর্শন করে সচিব একাউন্টসের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি, পরিষদের নানা প্রকল্পের তথ্য জানতে চাইলে একাধিক পরিষদের বর্তমান কর্মরত চেয়ারম্যান, সচিব এবং অ্যাকাউন্টেন্ট নানা অজুহাত দেখিয়ে কেটে পড়েন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত দেড় বছরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনের সংস্কার কাজে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। সংস্কার কাজের ব্যয়, ঠিকাদার নিয়োগ নিজ পছন্দের এবং কোন টেন্ডার বিহীন এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগ কারীরা।

সদর উপজেলার ভবনের নকশা অনুমোদনেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি নকশা অনুমোদন কমিটির সব সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়াই কিছু নকশা অনুমোদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ হলো— নকশা অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি)-কে বাদ দিয়েই সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক বিধিমালা উপেক্ষা করে এমন কার্যক্রম পরিচালনার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে।

উপজেলা পরিষদের বিল ছাড়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদারের দাবি, বিল পাস করাতে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হয়, আর না হলে ফাইল পড়ে থাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার টেবিলে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন ছাড়া অনেক বিল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়।

এদিকে নতুন উপজেলা পরিষদ কম্পাউন্ডে আবাসিক এলাকার জন্য নির্ধারিত স্থানে অফিসার্স ক্লাব নির্মাণ নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগকারী বলছেন, সরকারি নীতিমালা ও মাস্টারপ্ল্যান উপেক্ষা করেই এ স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা-তার বক্তব্যে বলেন, আমার বিরুদ্বে আনীত অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রী ও শর্তান্বেষী মহল উঠে পড়ে লেগেছে।

ইউএনও কানিজ ফাতেমা মন্তব্য করেন, আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ বিগত ৬ মাস ধরে আমার পেছনে ঘুরতেছে, বহু উচ্চ মহলেও গিয়েছে, কেউ নিউজ করে না।

কুমিল্লাক্রাইমনিউজ/২৬