১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeSecond leadচীনের সিনোভ্যাকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান

চীনের সিনোভ্যাকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা অনুদান

Comilla-Crime-News-China's-

বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ পোলিও টিকা অনুদান দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।

এ উপলক্ষে বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লী সাওপোং এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের অনুদান বাংলাদেশের প্রতি চীনের আন্তরিক সহযোগিতার আরেকটি উদাহরণ। তিনি চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, অর্থনৈতিক খাতের পরম বন্ধু হিসেবে চীন যে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা থাকলেও এখনও ডেঙ্গু, পোলিও ও হান্টাসহ বিভিন্ন রোগ দেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তবে পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগ প্রতিরোধে টিকার প্রয়োজন, সেগুলোর কোনো ঘাটতি নেই এবং সরকার নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। যেসব শিশু এখনও টিকা পায়নি, তাদেরও দ্রুত টিকার আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি খুব শিগগিরই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।

সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লী নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে তারা অত্যন্ত গর্বিত। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন অর্জনকারী সিনোভ্যাকের তৈরি ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (এসআইপিভি) ভ্যাকসিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

লী নিং আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক কাজ করে যাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতেও প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জানা গেছে, সিনোভ্যাকের তৈরি মোট ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল পোলিও টিকার চালান ইতোমধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন এলাকার টিকাদান কেন্দ্রে এসব টিকা সরবরাহ করা হবে।

উল্লেখ্য, সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন (ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন-এসআইপিভি) ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে।

বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পোং, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।