১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadদেশে উৎপাদিত ফলের অর্ধেকই আম, কাঁঠাল ও কলা

দেশে উৎপাদিত ফলের অর্ধেকই আম, কাঁঠাল ও কলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে উৎপাদিত মোট ফলের প্রায় অর্ধেকই আসে মাত্র তিনটি ফল—আম, কাঁঠাল ও কলা থেকে। বর্তমানে দেশে অন্তত ৭৮ প্রজাতির ফল চাষ হলেও উৎপাদনের বড় অংশ এখনো এই তিন ফলের ওপর নির্ভরশীল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আম, কলা, কাঁঠালসহ শীর্ষ ১০টি ফল দেশের মোট ফল উৎপাদনের প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং মোট ফল আবাদি এলাকার ৭৯ শতাংশ জুড়ে চাষ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১ কোটি ৫১ লাখ টন ফল উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে আম উৎপাদন হয় প্রায় ২৭ লাখ টন, কলা ২২ লাখ টন এবং কাঁঠাল ১৮ লাখ টন। এছাড়া তরমুজের উৎপাদন প্রায় ১২ লাখ টন, পেঁপে ও পেয়ারা ৬ লাখ টন করে। আনারস, লিচু ও বরইয়ের উৎপাদন দুই থেকে তিন লাখ টনের মধ্যে এবং ড্রাগন ফলের উৎপাদন এক লাখ টনের কাছাকাছি।

দেশে ফল উৎপাদনের একটি বড় অংশ মৌসুমি। মে থেকে আগস্ট—এই চার মাসেই মোট ফল উৎপাদনের ৫৪ শতাংশ বাজারে আসে। বাকি আট মাসে উৎপাদিত হয় মাত্র ৪৬ শতাংশ ফল। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে বাজারে দাম কমে যায় এবং অপচয়ের পরিমাণও বাড়ে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের ফল বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মসিউর রহমান বলেন, অপ্রচলিত ফলের বাণিজ্যিক মূল্য কম হওয়ায় কৃষকেরা এসব ফল চাষে আগ্রহী নন। এছাড়া উন্নত জাত উদ্ভাবন, গবেষণা ও বাণিজ্যিক চাষের সীমাবদ্ধতার কারণেও অনেক ফলের উৎপাদন বাড়ছে না। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মৌসুমি ফল বাজারে আসায় ভোক্তাদের চাহিদা কমে এবং অপচয় বাড়ে। অন্যদিকে বিদেশি ফলের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহও দেশীয় ফলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।

উৎপাদনের দিক থেকে আম ও কলার চাষ ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও কাঁঠালের উৎপাদন কমছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালে ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২৭ লাখ ৯৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ১৪টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আমের ব্যাপক চাষ হচ্ছে এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়ায় কৃষকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, এক যুগ আগে ২০১২-১৩ অর্থবছরে কাঁঠালের উৎপাদন ছিল ৩২ লাখ ১২ হাজার টন, যা বর্তমানে কমে প্রায় ১৮ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে এসেছে। একই সময়ে কাঁঠালের আবাদি জমিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ না হওয়ায় এ ফলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরমুজ, পেঁপে, পেয়ারা, আনারস, লিচু, বরই, ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি ও মাল্টাজাতীয় ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ফল ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক চাষের আওতায় আসছে।

ফলের উৎপাদন ও বৈচিত্র্য বাড়াতে নতুন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, অপ্রচলিত ফলের বাণিজ্যিক উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকার নতুন নীতিগত সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাঁর মতে, এ খাতের সম্প্রসারণ দেশের পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনলাইনডেস্ক/কুক্রানি/২৬