
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপির সঙ্গে আজ তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে গত দুই দশকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদারে সংসদীয় কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে এগিয়ে চলছে। এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে এবং সংসদীয় পর্যায়ের সহযোগিতাও আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ইলেকট্রনিক পণ্যের শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক শিল্প স্থাপনে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন বলেন, স্যামসাংসহ বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোরিয়ান কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশ সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। স্পিকারের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি ‘জাতীয় যন্ত্রপাতি পরিচিতি নিবন্ধন’ বাস্তবায়নেও বাংলাদেশের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।
স্পিকার কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মানবসম্পদ বিনিময়, আন্তঃসংসদীয় সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গভীর, বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় স্পিকার ভোলার গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন এবং ইউরিয়া সার কারখানা নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









