২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadকুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ে নষ্ট করে বাণিজ্য মেলার আয়োজন!

কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ে নষ্ট করে বাণিজ্য মেলার আয়োজন!

নেপথ্যে কারা? প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা, প্রতিবাদে সরব হওয়ার আহ্বান সচেতন মহলের

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

কুমিল্লা বিমানবন্দরের রানওয়ে—একটি জেলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। অথচ সেই বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ব্যবহার করে বাণিজ্য মেলার আয়োজনের উদ্যোগ ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগ উঠেছে, মেলার আয়োজন করতে গিয়ে বিমানবন্দরের রানওয়ের ক্ষতি ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কুমিল্লা বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার রানওয়ে ব্যবহার করে এমন আয়োজনের অনুমতি বা সুযোগ পেল কারা? এর পেছনে নেপথ্য মদদদাতা কারা?

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃশ্যমান কোনো কঠোর অবস্থান দেখা যাচ্ছে না। ফলে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, বিমানবন্দরের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে এভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা কী?

কুমিল্লা বিমানবন্দর দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকলেও এটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে আলোচনা ও উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এমন সময়ে বিমানবন্দরের রানওয়ে বা অবকাঠামো কোনো মেলার কাজে ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে ভবিষ্যতে বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনাই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা।

অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনীতিবিদদের নীরবতাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা নিয়ে যেখানে জনস্বার্থে কথা বলার কথা, সেখানে দৃশ্যমান প্রতিবাদ বা কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় হতাশ স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, উন্নয়নের সম্ভাবনাময় একটি স্থাপনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কোনো ধরনের আয়োজন মেনে নেওয়া হবে না। বিশেষ করে মেলার প্রবেশ টিকিটের নামে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, জুয়া কিংবা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়, তাহলে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করবে।

সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বাণিজ্য মেলার আয়োজনের আগে বিমানবন্দরের রানওয়ে, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও অবকাঠামোর ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মেলার অনুমোদন, আয়োজক কারা, কী শর্তে অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং বিমানবন্দরের সম্পদ ব্যবহারের বৈধতা কী—এসব বিষয় জনসম্মুখে পরিষ্কার করা জরুরি।

কুমিল্লাবাসীর প্রশ্ন একটাই—যে বিমানবন্দরকে ৩২ বছর পর পুনরায় চালুর স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, সেই বিমানবন্দরের রানওয়ে কি বাণিজ্য মেলার জন্য নষ্ট করার সুযোগ দেওয়া হবে?

নাকি জনস্বার্থে এবার প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে বিমানবন্দরের সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—সেদিকেই তাকিয়ে কুমিল্লার মানুষ।

নিউজডেস্ক,কুমিল্লা,,,