২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst leadকুমিল্লা বৃক্ষ মেলায় অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতার অভাব প্রশ্নের মুখে আয়োজকদের প্রস্তুতি

কুমিল্লা বৃক্ষ মেলায় অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতার অভাব প্রশ্নের মুখে আয়োজকদের প্রস্তুতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি।।

বন বিভাগ ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর আয়োজিত কুমিল্লা বৃক্ষ মেলা এবার শুরু হয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির মধ্য দিয়ে। কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে উদ্বোধন হওয়া এ মেলার প্রবেশপথ ও ভেতরের পরিবেশ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থী, নার্সারি মালিক এবং সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১১ জুলাই) সকালে টাউনহল মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষাকাল বিবেচনায় প্রতিবছর মেলার গেট থেকে শুরু করে প্রতিটি রো ও গলিতে ইটের সলিং বা চলাচল উপযোগী অস্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হলেও এ বছর তার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। মেলার প্রবেশমুখ কাদায় একাকার। ভেতরের অধিকাংশ স্থানও কর্দমাক্ত হওয়ায় দর্শনার্থীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, প্রতিবছর যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়, এ বছর কেন তা নেওয়া হয়নি? কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের উদ্বোধনের আগেই কেন মেলার ন্যূনতম অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেল না?

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও দেখা গেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতির ঘাটতি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা ছাড়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের তেমন উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। এমনকি অনুষ্ঠান চলাকালে বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে উত্তেজিত হয়ে দ্রুত কর্মকর্তাদের উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দিতে দেখা যায়, যা আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে আসে।

মেলায় অংশ নেওয়া একাধিক নার্সারি ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আয়োজনে ব্যাপক গাফিলতি রয়েছে। সমস্যার কথা বলার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিবছর বর্ষার মধ্যে মেলায় অংশ নিলেও দর্শনার্থীদের জন্য অন্তত হাঁটার ব্যবস্থা করা হতো। এবার গেট থেকেই দুর্ভোগ শুরু।

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মেলা উদ্বোধনের আগেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে পুরো মাস কীভাবে চলবে তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
মেলায় গাছ দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগও একই। তাদের ভাষ্য, এমন কাদার মধ্যে পরিবার নিয়ে মেলায় আসা সম্ভব নয়। সামান্য কিছু ইটের সলিং দিলেই মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারত। প্রতি বছর যে ব্যবস্থা দেখা যায়, এবার তার কিছুই নেই।

সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, মেলার জন্য বরাদ্দ অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে, প্রস্তুতি গ্রহণে কারা দায়িত্বে ছিলেন এবং কেন উদ্বোধনের আগেই দর্শনার্থীদের চলাচলের ন্যূনতম ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি—এসব বিষয়ে আয়োজকদের জবাবদিহি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে বন বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কুমিল্লা সামাজিক বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমীনকে একাধিক বার কল করেও তার সাথে যোগাযোগ করা যায় নি।

কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে এবারের বৃক্ষ মেলার অব্যবস্থাপনা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন মেলার দর্শনার্থী ও দোকানীরা।

নিউজডেস্ক…….