১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Homeখেলাভিনিসিয়াসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে ব্রাজিল

ভিনিসিয়াসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে নকআউটে ব্রাজিল

Brazil blow away Scotland with a Vinicius brace to reach the knockout stage.

ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা চারটিতে উন্নীত করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে এই পরাজয়ের ফলে আবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে স্কটল্যান্ড।

মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। স্কটল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশলের সুযোগ নিয়ে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। ইনজুরিতে থাকা রাফিনিয়ার পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পাওয়া বোর্নমাউথের তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ান প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে ভিনিসিয়াসকে পাস দেন। এরপর গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গানকে কাটিয়ে সহজেই বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান তারকা।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে একই ধরনের ভুল থেকে আবারও গোল খাওয়ার মুখে পড়ে স্কটল্যান্ড। জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে গোলও করেছিলেন ভিনিসিয়াস। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর মেক্সিকান রেফারি গোলটি বাতিল করেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময় হেন্ড্রির পায়ে স্পর্শ করেছিলেন ভিনি।

তবে দ্বিতীয় গোল পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রাজিলকে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ভিনিসিয়াস। বিরতিতে যাওয়ার আগে রায়ানের আরেকটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ভিনিসিয়াসকে হ্যাটট্রিক থেকে বঞ্চিত করেন স্কটিশ গোলরক্ষক। এরপর ৬০তম মিনিটে ব্রুনো গিমারায়েসের পাস থেকে টুর্নামেন্টে নিজের তৃতীয় গোলটি করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড মাথিয়াস কুনহা। তার এই গোলেই ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত ব্রাজিলের।

ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে কুনহার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। প্রায় আড়াই বছর পর ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নামা এই তারকাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দর্শকরা। অক্টোবর ২০২৩-এর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ফিরে এসে করতালির মধ্যেই মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

বিশ্বকাপের শুরুতে কার্লো আনচেলত্তির দলকে নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও গ্রুপ পর্বে তাদের পারফরম্যান্স শিরোপার দাবিদারদের তালিকায় আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকে গ্রুপসেরা হয়েছে সেলেসাওরা। আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেন।

এর আগে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচেও গোল করেছিলেন ভিনিসিয়াস। ফলে ২০০২ বিশ্বকাপে রোনাল্ডো ও রিভালদোর পর প্রথম ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রতিটি গ্রুপ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি।

চার গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও রয়েছেন ভিনিসিয়াস। বর্তমানে তার সামনে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা পাঁচ। সমান চার গোল করে দৌড়ে আছেন আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পেও।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ডের জন্য বিশ্বকাপের ইতিহাস যেন একই গল্পের পুনরাবৃত্তি। এর আগে আটটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েও কখনও গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে পারেনি দলটি। এবারও সেই আশঙ্কাই ঘনিয়ে এসেছে। তিন ম্যাচ শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে গ্রুপের তৃতীয় স্থানে।

গ্রুপের অন্য ম্যাচে আটলান্টায় হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সাত পয়েন্ট অর্জন করেছে মরক্কো। গোল ব্যবধানে ব্রাজিলের পিছনে থেকে তারা গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।

ম্যাচে অন্তত একটি সান্ত্বনাসূচক গোল পেলে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার লড়াইয়ে কিছুটা সুবিধা পেতে পারত স্কটল্যান্ড। কিন্তু ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন দুবারই স্কট ম্যাকটোমিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন।

বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচবার মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাসে এটি ব্রাজিলের চতুর্থ জয়। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ১৯৭৪ সালের গোলশূন্য ড্র। বাকি চার ম্যাচেই জয় পেয়েছে সেলেসাওরা।