১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeFirst lead২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে জানুয়ারি ও জুনে আনল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

২০২৭ সালের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে জানুয়ারি ও জুনে আনল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

Ministry of Education brings forward 2027 SSC-HSC exam dates to January and June

শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় সাশ্রয়, সেশনজট নিরসন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। অন্যদিকে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন এবং শেষ হবে ১৩ জুলাই।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ নতুন সময়সূচি ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, পরীক্ষার রুটিন ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফল প্রকাশের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একজন শিক্ষার্থী সাধারণত ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও সেশনজটের কারণে তা অনেক ক্ষেত্রে ২০ বছর পর্যন্ত গড়াচ্ছে। আমরা এই ব্যবধান কমিয়ে আনতে চাই।”

তিনি আরও জানান, সরকারের লক্ষ্য হলো ডিসেম্বরকে পরীক্ষার মাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যাতে জানুয়ারি থেকেই নতুন শিক্ষা সেশন শুরু করা সম্ভব হয়।

বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ফল সেমিস্টারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এইচএসসি পরীক্ষা জুন-জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে সময়গত সুবিধা পাবে।

এছাড়া ফল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের তাগিদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

কোচিং সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার বিষয়েও কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শ্রেণিকক্ষে পাঠদান আরও কার্যকর করতে হবে। পরীক্ষা ও ভর্তির মধ্যবর্তী সময় কমিয়ে আনা এবং ইন-হাউস টিচিং শক্তিশালী করা গেলে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতা এমনিতেই কমে আসবে।”

শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, শিক্ষক প্রশিক্ষণ জোরদার করা, শিক্ষার্থীদের পড়ার অভ্যাস বা রিডিং হ্যাবিট বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।