
কুবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে থমকে গেছে মহাসড়ক, দুই পাশে দীর্ঘ যানজট, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী শিশু ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্বরোড এলাকায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে এ অবরোধ শুরু করেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী ও চালকরা।
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একই সঙ্গে কুমিল্লায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তারা ৬০ দিনের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, অপ্রতিম হত্যার বিচার শুধু একটি পরিবারের দাবি নয়; এটি কুমিল্লার মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। একজন কিশোর নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি—এ ধরনের ঘটনায় ভবিষ্যতে কোনো পরিবার যেন এমন অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার করে ৬০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দায় স্বীকার করে প্রত্যাহার; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
এ ছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত উদ্ধারে তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠনের দাবিও জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কুমিল্লায় কোনো নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার পর তার অবস্থান শনাক্ত, নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দ্রুত উদ্ধারের জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অপ্রতিমের মতো আর কোনো পরিবারের সন্তান যেন নিখোঁজ হওয়ার পর নির্মম পরিণতির শিকার না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার অপ্রতিমের মরদেহ
পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তুহিনসহ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার ও নিরাপদ কুমিল্লার দাবিতে শিক্ষার্থীদের এ অবরোধকে কেন্দ্র করে মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।
নিউজডেস্ক,কুমিল্লা











