১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
Homeলাইফস্টাইলউচ্চ কোলেস্টেরলের নীরব সংকেত, যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন

উচ্চ কোলেস্টেরলের নীরব সংকেত, যেসব লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হবেন

Comilla-Crime-News-4

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম নীরব কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে ধমনির ভেতরে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে শুরু করে। এতে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তবে শুরুতে এই সমস্যা অনেক সময় টের পাওয়া যায় না। একপর্যায়ে এটি হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা গুরুতর হৃদরোগের কারণ হতে পারে।

তবে বিপদের আগেই শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। অনেকেই এসব লক্ষণকে সাধারণ ক্লান্তি বা সাময়িক ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ সময়মতো লক্ষণগুলো শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় কিংবা বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও যদি পায়ে ভারী অনুভূতি, ব্যথা বা হঠাৎ খিঁচুনি দেখা দেয়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনিতে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব

ধমনিতে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমলে বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, এটি হৃদরোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা, টান বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা দেখা দিতে পারে। অনেকেই এটিকে সাধারণ পেশির ব্যথা ভেবে গুরুত্ব দেন না।

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি ভাব, অসাড়তা কিংবা ঠান্ডা অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা যায়। এছাড়া সিঁড়ি ভাঙা বা দ্রুত হাঁটার সময় অতিরিক্ত হাঁপিয়ে যাওয়া কিংবা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়াও সতর্কবার্তা হতে পারে।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমার একটি স্পষ্ট সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোলেস্টেরল বিপদসীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষণও হতে পারে।

কী করবেন?

চিকিৎসকরা বলছেন, এ ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, তেল-চর্বি কম খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম জীবনযাপন উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।