
অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে অনন্য গৌরব অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। ২০২৫ সালের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযান মূল্যায়নে সারাদেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে ‘ক’ গ্রুপে তৃতীয় এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ।
ভারতের সঙ্গে ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এবং ১৮টি থানা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা জেলা ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হিসেবে পরিচিত। নদীবেষ্টিত ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই চোরাকারবারিরা এই জেলাকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডের রুট হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করে আসছে।
তবে বর্তমান পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম এর যোগদানের পর থেকে জেলা পুলিশের সব ইউনিট সমন্বিতভাবে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ শুরু করে। তাঁর সুযোগ্য দিকনির্দেশনায় অস্ত্র, মাদক, চুরি ও ডাকাতি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ ব্যাপক সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়।
গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা পুলিশকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের নিকট থেকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।
পুরস্কার গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম বলেন, “এই গৌরবময় অর্জন কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্যের ত্যাগ, সাহসিকতা এবং নিরলস পরিশ্রমের ফসল। কুমিল্লা একটি সীমান্তবর্তী ও জনবহুল জেলা হওয়ায় এখানে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সবসময়ই বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়া। আইজিপির নিকট থেকে প্রাপ্ত এই সম্মাননা আমাদের দায়িত্ববোধকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমি এই সাফল্যের জন্য জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই এবং সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করছি। আমাদের এই অভিযান আগামীতে আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।”
জাতীয় পর্যায়ে এই অর্জন কুমিল্লা জেলা পুলিশের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।









