২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Contribute News কনভার্টার

২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
HomeSecond leadকুমিল্লায় ১৮ থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ২৫৪, সদরে ৩৭

কুমিল্লায় ১৮ থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক আরও ২৫৪, সদরে ৩৭

Comilla_Crime_News

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আবারও একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। জেলার ১৮টি থানায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে আরও ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার একই ধরনের অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। দুই দফার অভিযানে মোট আটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭৮ জনে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নগর ও উপজেলা পর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং উঠতি বয়সী বখাটেদের আড্ডাস্থল চিহ্নিত করে এসব অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, অভিযানে আটক ২৫৪ জনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপের’ সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগনে। রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিক বর্তমানে গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ জানায়, ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আনিক। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর জামিনে বের হয়ে তিনি আবারও গ্যাংয়ের কার্যক্রমে যুক্ত হন বলে পুলিশের দাবি।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন স্থানগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় ও অতীতের অপরাধের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সী অপরাধী ও অপরাধপ্রবণ আড্ডাস্থলগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে জেলা পুলিশ।